দাঁত ফেলার আগে ও পরে করণীয়

দাঁত ফেলার আগে ও পরে করণীয়

দাঁত মানুষের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান একটি সম্পদ। সকলের চেষ্টা করা উচিত দাঁতের যতোটা সম্ভব যত্ন নেওয়া। কিন্তু পূর্বের অবহেলা কিংবা নানা কারণে দাঁত ফেলে দিতে হতেই পারে। আর নিতান্তই যদি দাঁত ফেলে দিতে হয় তবে তার আগে ও পরে করণীয় সম্পর্কে জানা থাকা জরুরি। এ সম্পর্কে সাধারণত ডেন্টাল সার্জন দাঁত ফেলার সময় বিস্তারিত জানিয়ে দেন। তবু এই পোস্টে আমরা সেই বিষয়ে আলোচনা করব।

দাঁত ফেলার আগে করণীয়

  • প্রথমত নিজেকে দুশ্চিন্তামুক্ত রাখুন। দাঁত ফেলা অতীতে একটি যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা ছিল। বর্তমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে এটি সিংহভাগ ব্যাথামুক্ত সার্জারিতে পরিণত হয়েছে। এমনকি সম্পূর্ণ অজ্ঞান করেও এখন দাঁত ফেলা সম্ভব।
  • দাঁত ফেলার আগে কিছু বিষয় অবশ্যই আপনার ডাক্তারকে জানাতে হবে। যেমন আপনি যদি প্রেগন্যান্ট হন ,আপনার যদি ডায়বেটিস হাইপার টেনশন কিডনি,হার্ট কিংবা লিভার এর রোগ থাকে। আপনি যদি নিয়মিত কোন ঔষধ সেবন করে থাকেন।যদি আপনার এলকোহল বা অন্য কোন আসক্তি থেকে থাকে। আপনি যদি হেপাটাইটিস বি বা এইচআইভি পজিটিভ হয়ে থাকেন।
  • দাঁত ফেলার দিন আপনার সাথে থাকবেন এমন একজন রিলেটিভ সাথে করে নিয়ে যাবেন। একা একা দাঁত ফেলতে যাবেন না। সাথে attendant না থাকলে ডাক্তার দাঁত ফেলতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন।
  • পরের এক সপ্তাহ বাসায় নরম খাবার রান্নার প্রস্তুতি রাখুন (বিস্তারিত এই লেখার পরবর্তী অংশে)।
  • পরের দিন অফিস থাকলে ছুটি নিতে পারেন। বিশেষ করে আক্কেল দাঁত যদি সার্জিকাল এক্সট্রাকশন করতে হয় সেক্ষেত্রে দুদিন বা তিনদিন ছুটি নিতে পারেন।

দাঁত ফেলার পর করণীয়

১। দাঁত ফেলার পরের দু ঘণ্টা

দাঁত ফেলার পর সাধারণত ডেন্টিস্ট আপনাকে এক টুকরো তুলা কামড় দিয়ে রাখতে বলতে পারেন। সেটা আধা ঘণ্টা থেকে এক দেড় ঘন্টার জন্য হতে পারে যা ডেন্টিস্ট তখনই বলে দেবেন।

চেষ্টা করবেন এই সময়ের মধ্যে কথা না বলতে ও মুখ না নাড়তে। এই তুলা কামড় দিয়ে ধরে রাখা জরুরি কারণ এটা আপনার দাঁত ফেলে দেওয়ার দরুন তৈরি হওয়া গর্তের মধ্যে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করবে। তুলা নির্দিষ্ট সময় পর ফেলে দিলেই চলবে। ফেলে দেওয়ার পর নতুন কোন তুলা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অনেক ক্ষেত্রে ডাক্তার তুলা ফেলে দেবার পর ঠাণ্ডা আইস্ক্রিম খেতে বলতে পারেন। এটিও রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। তবে আইস্ক্রিম খেতেই হবে এমনটা জরুরি নয়। বিশেষ করে কারো যদি সহজে ঠান্ডা লেগে যায় তাদের আইস্ক্রিম না খাওয়াই উচিত।

২। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা করণীয়

পরবর্তী চব্বিশ ঘণ্টা খুবই জরুরি কারণ এই সময়েই জমাট বাঁধা রক্ত গর্তে স্থায়ীভাবে বসে যায় (clot stabilization) । তাই ডাক্তার এসময় থু থু ফেলা ও কুলি করা সম্পূর্ণ নিষেধ করে দেন। এসময় থু থু ফেললে বা কুলি করলে জমাট বাঁধা রক্ত গর্ত থেকে ছুটে যেতে পারে। এর ফলে ওই ক্ষতস্থান দীর্ঘদিন ব্যথা ও ইনফেকশন এর শিকার হতে পারে। এসময় ডাক্তার ব্রাশ করতেও নিষেধ করতে পারেন ক্ষেত্রবিশেষে। যারা নামাজের জন্য ওযু করতে হবে তারা মুখে পানি নিয়ে ছেড়ে দিতে পারেন। কিন্তু গাল ফুলিয়ে কুলি করা যাবে না।

৩। পরবর্তী ৭-১০ দিন করণীয়

দাঁত ফেলার পর থেকেই স্বাভাবিক এবং নরম খাবার খেতে হবে। স্যুপ , ঝাউ ভাত, সাবু ,সুজি , পায়েশ ইত্যাদি। শক্ত, গরম ও মশলাদার খাবার বন্ধ রাখতে হবে।
পান সিগারেট এগুলো পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে। এগুলো মুখের ক্ষত সারতে বাধা হিসেবে কাজ করে। এগুলো শুধু দাঁত ফেলার জন্য নয়, এমনিতেই সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা উচিত । পান সিগারেট জর্দা গুল ইত্যাদির কুফল নিয়ে ভিন্ন আরেকটি লেখা শীঘ্রই লেখার চেষ্টা করব। এগুলো হল জেনারেল গাইডলাইন।
এই গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলোর সাথে আপনার ডাক্তার বিশেষ করে আপনার জন্য আরো কিছু নির্দেশনা দিয়ে দিতে পারেন কিংবা এগুলোর কোন একটা পরিবর্তন করে দিতে পারেন। আপনার উচিত হবে সেগুলোই সঠিকভাবে মেনে চলা।
আশা করবো কারোই দাঁত ফেলতে হবে না।
সবাই ভালো থাকবেন। দাঁতের যত্ন নেবেন।
দাঁত ও মুখের চিকিৎসায় রেজিস্টার্ড BDS ডাক্তার এর শরণাপন্ন হবেন।

Leave a Reply