দাঁতের সবচেয়ে কমন তিন চিকিৎসা

দাঁতের সবচেয়ে কমন তিন চিকিৎসা

দাঁতের ক্ষয় বা ডেন্টাল ক্যারিজ হল মুখের তথা মানুষের শরীরের অন্যতম একটি রোগ। আর দাঁতের চিকিৎসা বলতে তাই ক্যারিজের চিকিৎসাই প্রথমে মাথায় আসে। আর এটা সত্যিও। দাঁতের সবচেয়ে কমন তিনটি চিকিৎসার প্রত্যেকটাই আসলে ক্যারিজের বিভিন্ন স্টেজের চিকিৎসা। আর আপনি চান বা না চান, জীবনের কোন এক পর্যায়ে আপনাকে এই তিনটি চিকিৎসার একটি না একটি গ্রহন করতেই হবে। আসুন তবে পরিচিত হই দাঁতের চিকিৎসার এই হোলি ট্রিনিটির সাথে।

১. ফিলিং

ফিলিং হল ডেন্টাল ক্যারিজ বা দাঁত ক্ষয়ের প্রাথমিক স্টেজের চিকিৎসা। এটাকে অনেকে ভুলভাবে পুটি, পুটিং ইত্যাদি নামে জেনে থাকেন যা প্রত্যেক ডেন্টিস্টের জন্য একটি বিভীষিকা। আপনার ডেন্টিস্টের প্রতি সদয় হোন এবং একে ফিলিং বলেই ডাকুন। খুব সহজ করে বলতে গেলে, ফিলিং মানে হল দাঁতের শক্ত অংশের যেইটুকু ক্যারিজ বা ক্ষয়ের কারনে নষ্ট হয়েছে সেটুকুকে সরিয়ে সেখানে অনুরূপ জিনিস দিয়ে দাঁতকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসা। এটি খুবই ইকোনমিক চিকিৎসা এবং সঠিকভাবে করা গেলে দীর্ঘদিন ভালো থাকার সম্ভাবনাই বেশি। এটি ডাক্তারের সময় ও শ্রম এবং রোগীর কষ্ট ও টাকা সবই সেভ করে। কিন্তু এই চিকিৎসার পূর্বশর্ত হল সঠিক সময়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া। দাঁতে ফিলিং একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্তই করা যায় যখন ক্যারিজ দাঁতের পাল্প বা মজ্জা পর্যন্ত পৌঁছায় না। একবার দাঁতের মজ্জা পর্যন্ত ক্যারিজ পৌঁছে গেলে আর ফিলিং করা যায় না। এখানে একটা মুশকিল হল দাঁতে বেশি ব্যাথা তখনই হয় যখন ক্যারিজ মজ্জায় পৌঁছে যায়। আর বেশিরভাগ মানুষ দাঁতে ব্যাথা না হলে ডেন্টিস্ট দেখাতে চান না। অথচ আপনি দাঁতে কালো দাগ,শিরশির বা ক্ষয়ের লক্ষন দেখামাত্র ডেন্টিস্ট এর শরণাপন্ন হলে আপনার অর্থ সময় ও মূল্যবান দাঁত সবই সেভ করা সহজ হয় ফিলিং এর মাধ্যমে।

আরেকটি বিষয় জেনে রাখা উচিত। অনেকে দাঁতের যেকোন সমস্যায় ডাক্তারের কাছে গিয়ে জোর করে দাবী করেন যে ফিলিংই করে দিতে হবে। কিন্তু এই লেখার পরবর্তী অংশেই আপনারা দেখবেন যে দাঁতের সব সমস্যায় ফিলিং করা যায় না। এতে হিতে বিপরীত হবার সম্ভাবনাই বেশি। দরকার হলে ভিন্ন একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক এর পরামর্শ নিন। নিশ্চিত হয়ে নিন আদৌ ফিলিং করার সুযোগ আছে কিনা। কিন্তু কখনোই জোর করে ফিলিং করাবেন না যখন কিনা ডাক্তার ভিন্ন চিকিৎসার পরামর্শ দিচ্ছেন।

বিভিন্ন ধরনের ফিলিং নিয়ে বিস্তারিত আরেকটি লেখায় তুলে ধরার চেষ্টা করব।

২. রুট ক্যানাল ট্রিটমেন্ট

ক্যারিজ বা দাঁতের ক্ষয় যখন দাঁতের মজ্জা পর্যন্ত পৌঁছে যায় বা আঘাত কিংবা অন্য কোন কারনে দাঁতের মজ্জা নষ্ট হয়ে যায় তখন প্রয়োজন হয় রুট ক্যানাল চিকিৎসা। মজ্জা নষ্ট হওয়ার প্রথম পর্যায়ে সাধারনত তীব্র ব্যাথা হয়ে থাকে। আস্তে আস্তে ব্যাথা কমে আসে। কারো কারো ক্ষেত্রে এই প্রথম পর্যায়ে ব্যাথা অনেক কমও হতে পারে। এরপর দাঁতের মজ্জা থেকে ইনফেকশন ছড়াতে থাকে। দাঁতের গোড়া ফুলে ওঠে,পুঁজ আসতে পারে এবং সাথে পুনরায় তীব্র ব্যাথা শুরু হয়। রুট ক্যানাল ট্রিটমেন্ট নিয়ে আমাদের এই লেখাটি পড়তে পারেন। ফিলিং এর মত রুট ক্যানাল ট্রিটমেন্ট করারও সীমাবদ্ধতা আছে। দাঁতের খুব বেশি অংশ নষ্ট হয়ে গেলে রুট ক্যানাল করাও অসম্ভব হয়ে পড়ে।

৩. এক্সট্রাকশন(দাঁত ফেলে দেয়া)

ক্যারিজ বা কোন আঘাত যদি দাঁতের বেশিরভাগ অংশ নষ্ট করে ফেলে কিংবা ইনফেকশন তীব্র আকার ধারন করে তখন দাঁত ফেলে দেয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়াও আরো কিছু কারনে দাঁত ফেলা লাগতে পারে যা রেজিস্টার্ড চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নিয়ে করতে পারেন। এক্সট্রাকশনকে অনেকে খুব ছোট করে দেখেন এবং দাঁতের সমস্যার একমাত্র ভালো সমাধান বলে মনে করেন। একথা সত্য যে এক্সট্রাকশনে খরচ কম, কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব বিবেচনা করলে আদতে এর মূল্য অন্যান্য চিকিৎসার চেয়ে বেশিই হয়ে যেতে পারে। অনেক ডেন্টিস্ট তাই ৫০-২৮ রুল ফলো করতে উৎসাহিত করেন। ৫০-২৮ রুল মানে হল যেকোনভাবে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত ২৮ টি দাঁত চোয়ালে রাখা। দাঁতের সমস্যা তো বটেই, তাছাড়াও খাবার হজমের সমস্যা, চোয়ালের জয়েন্ট এর বিভিন্ন সমস্যা থেকে এটি আপনাকে বাঁচিয়ে রাখবে। দাঁত ফেলা ও চোখের সমস্যা নিয়ে অনেকের মনে ভয় কাজ করে। আমাদের এই লেখায় জানতে পারবেন আদৌ দাঁত ফেলার সাথে চোখের সমস্যার সম্পর্ক আছে কিনা।

সবাই ভালো থাকবেন। দাঁতের যত্ন নেবেন যেন তিনটির একটি চিকিৎসারও প্রয়োজন না পড়ে।

This Post Has 4 Comments

  1. Thank you for your good advice

    1. Thank you for your feedback.

  2. আমার caries হওয়ার পরপরই ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি বলেন এখনো বেশি হয়নি, আরো বেশি গর্ত হলেই ফিলিং করা যাবে। দাঁতে ব্যথা হয় বলতে তিনি আরো গর্ত করে তারপর ফিলিং করে দিয়েছে এবং বলেছে 5 বছরেরও কিছু হবে না। ৬ মাস ও হয় নি।
    কিন্তু তিনি কিছু দাঁতে ফিলিং না করিয়ে বলেছেন আরো কিছুদিন পরে, যখন আরো বেশি করতে হবে তখন। বেশ কিছুদিন হলো ফিলিং খুলে গেছে।
    বিভিন্ন সমস্যার কারণে এমন হতে পারে( মুখ দিয়ে শ্বাস নেই মাঝে মাঝে, মাড়ির দাঁত খুবই উঁচুনিচু) ।দুই দাতের মাঝেও cavity আছে ধারণা করছি। হয়তো কোন যন্ত্র দিয়ে দাঁতের সম্পূর্ণ অবস্থা বুঝে চিকিৎসা করা প্রয়োজন।
    প্রথম চিকিৎসার অভিজ্ঞতার পর এই বিষয় নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন আছি।

    আপনে কি বগুড়ার আশেপাশে কোথাও মাসে একবারের জন্য হলেও চিকিৎসা করতে আসেন? না আসলে ভালো ডাক্তার সন্ধানের ক্ষেত্রে কি পরামর্শ দেবেন?

    Akik
    Inter 2nd year
    Bogura.

    1. ডেন্টাল সার্জন দেখানোর ক্ষেত্রে একটি জিনিসই মাথায় রাখবেন, তার বিডিএস ডিগ্রী আছে কিনা এবং বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঠিক আছে কিনা। দুটোই আপনি চেক করতে পারবেন বিএমডিসি এর ওয়েবসাইটে। আর যদি অভিজ্ঞ কেউ যিনি বেশ কিছু বছর ধরে প্র্যাকটিস করছেন এরকম কাউকে দেখাতে পারেন তাহলে আরো ভাল হয়।

Leave a Reply