ডেন্টাল ক্যারিজ বা দন্তক্ষয়ের  কারন ও প্রতিরোধ

ডেন্টাল ক্যারিজ বা দন্তক্ষয়ের কারন ও প্রতিরোধ

শত কোটি মানুষের হাজার কোটি দাঁত। তাই দাঁতের সমস্যায় ভোগেন নি এমন মানুষ পাওয়া কঠিন। আর এতসব সমস্যার মধ্যে বোধহয় সবচেয়ে কমন সমস্যা হল দন্তক্ষয় বা ডেন্টাল ক্যারিজ। সব রোগের মত ডেন্টাল ক্যারিজের ক্ষেত্রেও এই কথাটি সত্য যে

prevention is better than cure

খুব ছোট এবং আপাত নিষ্পাপ এই রোগ আপনার জীবন দূর্বিসহ করে দিতে পারে অবহেলা করলে। তাই এই সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা দরকার।

ডেন্টাল ক্যারিজ কি?

সহজ করে বলতে গেলে ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা দাঁতের মিনারেল বা কঠিন অংশ ক্ষয় হয়ে যাওয়াই হল ক্যারিজ। “সহজ করে” কথাটা বললাম এই জন্য যে মূল প্রক্রিয়াটা আরো জটিল। তবে মোটামুটি (ইংরেজিতে যাকে বলে gist of it :-)) হল এই যে ক্যারিজ হবার জন্য চারটা ফ্যাক্টর জরুরি। এই চারটা ফ্যাক্টর একসাথে থাকলেই ক্যারিজ হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এগুলো হল –

  1. খাবার : মিষ্টি জাতীয় আঠালো খাবার যা একটু কঠিনভাবে দাঁতের সাথে লেগে থাকে। যেমন- ফাস্টফুড, চকলেট, বিস্কিট ইত্যাদি। এগুলো ব্যাক্টেরিয়ার জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে।
  2. ব্যাকটেরিয়া : ডেন্টাল ক্যারিজের জন্য দায়ী মূলত দুইটি ব্যাকটেরিয়া Streptococcus mutans আর Lactobacilli. যদিও মানুষের মুখে এরা স্বাভাবিকভাবেই থাকে, কিন্তু বাকি তিনটি ফ্যাক্টর না থাকলে এরা ক্যারিজ করতে পারে না।
  3. সময় : এই সময়ের পরিমান হল কমবেশি ৪৮ ঘন্টা।
  4. উপযোগী দাঁতের অংশ : দাঁতের উপরের শাখাপ্রশাখার মত খাঁজ, আকাবাকা দাঁত, আক্কেল দাঁত ইত্যাদি জায়গা পরিষ্কার করা কঠিন এবং এসব জায়গায়তেই ক্যারিজ বেশি হয়।

ডেন্টাল ক্যারিজের প্রতিকার

তাহলে বোঝাই যাচ্ছে যে এই চারটা ফ্যাক্টরকে এড়াতে পারলেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্যারিজ এড়ানো সম্ভব।

ক্যারিজ থেকে বাঁচতে যা যা করবেন –

  • প্রতিদিন অন্তত একবার (রাতে ঘুমাতে যাবার আগে) ও সম্ভব হলে দুইবার (দ্বিতীয়বার সকালে নাস্তার পর) সঠিক নিয়মে ব্রাশ করবেন। দুই দাঁতের মাঝে পরিষ্কার করার জন্য মাঝে মাঝে ফ্লস করা ভালো। বিশেষ করে মাংশ খাবার পর। বড় ফার্মেসীগুলোতে ফ্লস কিনতে পাবেন। ছোট হ্যান্ডেলওয়ালাগুলো না কিনে বান্ডেল আকারের গুলো কিনলে সাশ্রয়ী হবে, দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে পারবেন।
  • ফাস্টফুড, চিনি জাতীয় খাবার কম খাওয়া এবং খাওয়া হলে খাবার পর ভালো করে কুলি করা। সম্ভব হলে ব্রাশ করা।
  • ক্যারিজ বেশি হয় এমন জায়গাগুলোর উপর নজর রাখা। সেখানে খাবার জমতে না দেয়া।

এগুলো মেনে চললে বেশীরভাগ সময়ই ক্যারিজ আটকানো যায়। বেশিরভাগ বলছি এই জন্য যে অনেক ক্ষেত্রে জন্মগত কারনে দাঁত দুর্বল থাকতে পারে। কিংবা অন্য শারীরিক রোগ যেমন ডায়াবেটিস, গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল রিফ্লাক্স, মুখ দিয়ে নিশ্বাস নেবার অভ্যাস কিংবা নাকের অবস্ট্রাকশন বা এজমা যে কারনে রোগী মুখ দিয়ে নিশ্বাস নিতে চায়, এসব সমস্যা থাকলে দাঁতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী যত্ন নিতে হয়। আর এসব রোগ নিয়ন্ত্রণ না করলে অনেক যত্নের পরও দাঁত নষ্ট হতে পারে।

কেন ক্যারিজ হবার কিংবা হলে সেটা বাড়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না

যখনই দেখবেন আপনার দাঁতে ক্যারিজ এর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, দ্রুত ডেন্টিস্ট দেখান। এতে ঝামেলা ও খরচ দুটোই কমবে। নীচের ইনফোগ্রাফটি দেখুন।

দাঁত ফেলে দেয়ার খরচ আপাতদৃষ্টিতে কম মনে হলেও এতে আপনি মূল্যবান দাঁত হারাবেন এবং নকল দাঁত লাগানো কিংবা খালি অবস্থায় ফেলে রাখার ভবিষ্যৎ প্রভাব হিসেব করলে খরচ নিতান্ত কম নয়।

এই পোস্টে শুধুমাত্র ক্যারিজ প্রতিরোধের উপায় নিয়ে লেখা হল। ক্যারিজ থেকে আর কি কি রোগ হতে পারে তা নিয়ে সামনের পোস্টে লেখা হবে। ভালো থাকুন, দাঁত ও মুখের যত্ন নিন।

This Post Has 2 Comments

  1. আমার সম্ভবত ক্যারিজ হয়েছে, ৬,৭ দাঁত, সামান্য একটুভেঙে ও গেছে খেতে গিয়ে কঙ্কর পড়েছিল, ঠান্ডা পানি পান করলে শিরশির করছে,cavity ও আছে,চিবিয়ে খেতে গিয়ে ব্যাথা, আজ ডাঃ দেখিয়েছি তিনি আমাকে filling 6,7 করাতে বলেছেন। খুব বেশি সমস্যা হয়না আমার,এখন আমি কি filling করাব?

    1. উনি যদি রেজিস্টার্ড BDS ডাক্তার হয়ে থাকেন তবে অবশ্যই উনার পরামর্শ ফলো করতে পারেন। ফিলিং একটি সাশ্রয়ী চিকিৎসা। ঠিকমত করা হলে এটি আপনাকে অনেক ভবিষ্যত জটিলতা থেকে বাঁচিয়ে দেবে।

Leave a Reply