গর্ভাবস্থায় দাঁত ও মুখের সমস্যা ও তাদের প্রতিকার

গর্ভাবস্থায় দাঁত ও মুখের সমস্যা ও তাদের প্রতিকার

সাধারণত গর্ভাবস্থায় দাঁত ও মুখের সমস্যা বেড়ে যায়। এর কয়েকটি কারন আছে। গর্ভাবস্থায় মানুষের শরীরের ইমিউন সিস্টেমের হাত থেকে ভ্রুণের সুরক্ষার্থে মায়েদের শরীরে স্বাভাবিক নিয়মে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একটু কমে যায়। এসময় হরমোনের পরিমানে অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। খাবারে এবং দাঁতের যত্নেও অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়। আউটডোরে তাই আমরা প্রেগন্যান্সি জিনজিভাইটিস,ডেন্টাল ইনফেকশন কিংবা আক্কেল দাঁতের সমস্যা নিয়ে আসা গর্ভবতী নারী রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি পাই। এই লেখায় এসিব সমস্যার কারন, প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করা হবে।

জটিলতা ও ভোগান্তি
গর্ভাবস্থায় প্রকট হতে পারে এমন সমস্যার মধ্যে আছে –

  • ডেন্টাল ক্যারিজ
  • পেরিওডন্টাইটিস/জিনজিভাইটিস/দাঁত নড়া
  • আক্কেল দাঁতে প্রদাহ
  • মুখে বিভিন্ন ঘা বা গোটার মত হওয়া।

ডেন্টাল ক্যারিজ

গর্ভবতী মহিলাদের দাঁতে ডেন্টাল ক্যারিজ হবার প্রবণতা বেড়ে যায়। শরীরে হরমোনের পরিবর্তন, মুখে লালার পরিমান কমে যাওয়া এর মূল কারন। এজন্যে প্রতিদিন বেশি বেশি পানিভখেতে হবে এবং দাঁতের যত্ন নিতে হবে নিয়মিত। এই যত্ন অন্যসময়ের মতই। শুধু একটু খেয়াল করে নিয়মিত করতে হবে।

বমি হওয়া

গর্ভবতীদের দাঁত ও মুখের সমস্যার আরেকটি উৎস হল এসময় বেশি বেশি বমি হওয়া। বমি হলে মুখে এসিডের পরিমান বেড়ে যায়। বমি হবার পরপর ব্রাশ করলে দাঁতের এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এজন্যে বমি হবার পর ভালো করে পানি দিয়ে কুলি করতে হবে। নুন্যতম আধাঘণ্টা থেকে একঘন্টা পর ব্রাশ করতে হবে।

ফুড ক্রেভিং

গর্ভাবস্থায় বেশি বেশি এবং অসময়ে খাবার ইচ্ছা জাগতে পারে। ডেন্টিস্টরা সাধারণত “In between meals” খাওয়া নিরুৎসাহিত করেন। কিন্তু গর্ভাবস্থায় খেতে ইচ্ছে হলে অবশ্যই খাওয়া উচিত। এক্ষেত্রে প্রত্যেকবার খাবার পর ব্রাশ করা জরুরি নয়। উচিতও নয়। মায়েদের উচিত হবে এরকম সময়ে মিষ্টি জাতীয় খবারের চেয়ে ফল বেশি খাওয়া। এবং খাবার পর কুলি করে মুখ পরিষ্কার রাখা।

ক্যালসিয়াম ঘাটতি

গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে ক্যালসিয়াম ঘাটতির জন্য দাঁত দুর্বল হয়ে নড়ে যেতে পারে। তবে এটি দাঁত থেকে ক্যালসিয়াম চলে যাবার জন্য হয় না। বরং মায়ের শরীরের হাড় থেকে ক্যালসিয়াম কমে যাবার জন্য হয়। এই ঘাটতি যদিও বাচ্চা বুকের দুধ খাওয়া ছেড়ে দেবার পরপর স্বাভাবিকে চলে আসে তবুও মায়েদের উচিত বেশি বেশি ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া।

পূর্বেকার আক্কেল দাঁত ও ডেন্টাল ক্যারিজ

গর্ভাবস্থায় দাঁত ও মুখের সমস্যায় পড়লে মায়েদের ভোগান্তি বেড়ে যায় বহুগুনে। কেননা এই সময় মায়েদের যেকোন ব্যাথানাশক কিংবা এন্টিবায়োটিক দেয়া যায় না। গর্ভাবস্থায় যেসব ঔষধ মায়েরা খেতে পারেন সেগুলোর ব্যাথানাশক ক্ষমতা বেশ কম। শক্তিশালী ব্যাথানাশক কিংবা এন্টিবায়োটিকগুলোর ভ্রুণের ওপর প্রভাব থাকার সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে চিকিৎসকরা সেগুলো এড়িয়ে চলেন। আবার আক্কেল দাঁত ও ডেন্টাল ক্যারিজের কিছু চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক্সরে করা জরুরি যা গর্ভাবস্থায় করা যায় না। ফলাস্বরুপ দেখা যায় দাঁত ও মুখের সমস্যায় গর্ভবতী নারীরা প্রচুর ভোগান্তির শিকার হন।
অথচ পরিবার পরিকল্পনার সময় সামান্য একটু সাবধানতা এই ভোগান্তি অনেক কমিয়ে দিতে পারে।

করণীয়

যখনই কোন দম্পতি সন্তান নেবার সিদ্ধান্ত নেন তখনই তাদের উচিত একজন ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেয়া। যদি স্ত্রীর দাঁতে বা মুখে এমন কোন সমস্যা থাকে যা গর্ভাবস্থায় প্রকট হতে পারে তবে চিকিৎসক সেটা বুঝতে পারবেন এবং দম্পতির উচিৎ হবে সেই সমস্যার চিকিৎসা করিয়ে নেয়া। ডেন্টাল ক্যারিজ ও আক্কেল দাঁত এর মধ্যে অন্যতম।

এছাড়াও দাঁত ও মুখের যত্নে গর্ভাবস্থায়ও কোন অবহেলা করা যাবে না। এখানে মনে রাখা কর্তব্য যে বেশিরভাগ মাউথওয়াশে এলকোহল উপাদান থাকে যা গর্ভাবস্থায় ক্ষতিকর । তাই এগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো। শুধুমাত্র নিয়মিত ব্রাশ এবং ফ্লস করাই অনেকখানি সাহায্য করবে রোগ প্রতিরোধে।

তাই দাঁতের চিকিৎসাকে পরিবার পরিকল্পনার অংশ করে নিন।
সবাই সুস্থ থাকুন এবং দাঁত ও মুখের যত্ন নিন।

Leave a Reply