আলগা দাঁত লাগানোর সবচেয়ে বেশি প্রচলিত তিনটি পদ্ধতি।

আলগা দাঁত লাগানোর সবচেয়ে বেশি প্রচলিত তিনটি পদ্ধতি।

দাঁত এর গুরুত্ব নিয়ে খুব বিখ্যাত একটি উক্তি হয়ত আপনারা শুনে থাকবেন।

“Every tooth in a man’s head is more valuable than a diamond.”

~Miguel de Cervantes

কিন্তু যেকোন কারনেই হোক, কখনো কখনো আপনাকে এই মুল্যবান দাঁত ফেলে দিতে হতেই পারে। আর ফেলে দেবার পর প্রয়োজন ও উপযোগীতা অনুসারে ডাক্তার আপনাকে আলগা দাঁত লাগানোর পরামর্শ দিতে পারেন। আলগা দাঁত লাগানোর অনেকগুলো পদ্ধতি আছে। তার মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত তিনটি পদ্ধতি ও তাদের স্কোপ, সুবিধা-অসুবিধা খরচ ইত্যাদি নিয়ে এই পোস্টে আলোচনা করা হবে।

আসলে আপনি কোন পদ্ধতিতে আলগা দাঁত লাগাবেন তা সবসময় আপনার পছন্দ অনুযায়ী হবে এমন নয়। আপনার শারীরিক অবস্থা, বাকি দাঁতগুলোর অবস্থা, মাড়ি ও হাড়ের অবস্থা ইত্যাদি বিষয়ই বেশিরভাগ সময় নির্ধারণ করে দেয় কোন পদ্ধতি আপনার জন্য বেস্ট। তবে অনেকসময়ই আপনার হাতে একাধিক অপশন থাকতে পারে। তখন আপনি কোন পদ্ধতি গ্রহন করবেন তা সিদ্ধান্ত নিতে আশা করি এই পোস্ট আপনাকে হেল্প করবে। তবে অবশ্যই মাথায় রাখবেন যে এই লেখা শুধুমাত্র আপনাকে একটি গ্রসলি জেনারেলাইজড আইডিয়া দেবার জন্য লেখা হয়েছে। যে কোন রেজিস্টার্ড ডেন্টাল সার্জন আপনাকে সরাসরি দেখে যে পরামর্শ দেবেন তার গুরুত্ব ও প্রযোজ্যতা অনেক বেশি হবে।

তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

আলগা দাঁত লাগানোর যতগুলো পদ্ধতি আছে তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি তিনটি।

  1. রিমুভেবল ডেনচার
  2. ফিক্সড ডেনচার / ব্রিজ
  3. ইমপ্ল্যান্ট

এই পদ্ধতিগুলোর কোন সুপেরিওরিটি অর্ডার নেই। সার্বিক বিবেচনায় একজন রোগীর জন্য যেকোনটিই ভালো বিবেচ্য হতে পারে।

রিমুভেবল ডেনচার

এটি আলগা দাঁত লাগানোর অন্যতম বহুল প্রচলিত ও জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি। একই মাড়িতে অনেকগুলো দাঁত না থাকলে কিংবা মাড়ি ও হাড়ের অবস্থা একটু দুর্বল থাকলে এই পদ্ধতি বেশ কাজে আসে। একটু বয়ষ্ক মানুষ যাদের ক্ষেত্রে ব্রীজ কিংবা ইমপ্ল্যান্ট এর মত চিকিৎসা নেয়া ঝামেলার তাদের জন্য খুবই উপযোগী এই পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে প্রথমে দাঁত ও মাড়ির ছাপ নেয়া হয়। ছাপ নেয়ার প্রক্রিয়াকে ইম্প্রেশন বলা হয়। তার সেই ছাপ থেকে ফাকা স্থানের মাপ অনুযায়ী ডেনচার বানানো হয়। ডেনচার বানাতে ব্যবহার করা হয় এক্রাইলিক রেজিন যা দেখতে মাড়ির মত এবং তার উপরে আরেক ধরনের এক্রাইলিক রেজিন এর তৈরি সাদা দাঁত বসানো থাকে। এই রিমুভেবল ডেনচার দেখতে নীচের ছবির মত। এগুলো কম খরচে তৈরি করা যায় এবং মোটামুটি টেকসই বলে খুবই জনপ্রিয়।

সুবিধা :

  • কম খরচ।
  • মোটামুটি টেকসই।
  • একই চোয়ালে অনেকগুলো দাঁত না থাকলেও এই ডেনচার লাগানো যায়।
  • খুবই কম সময়ে তৈরি করা যায়।

অসুবিধা :

  • এগুলোকে রাতে খুলে পানিতে রাখতে হয় এবং ব্রাশ করার সময় এগুলোকেও আলাদাভাবে পরিষ্কার করতে হয়।
  • দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর এগুলো একটু লুজ হয়ে যেতে পারে। তখন নতুন ডেনচার বানাতে হতে পারে।
  • কখনো কখনো ডেনচারটিকে ধরে রাখার জন্য বিশেষ ধরনের তারের তৈরি ক্লাস্প ব্যবহার করতে হয়। এই ক্লাস্প সামনের দাঁতে ব্যবহার করলে কিছুটা দৃষ্টিকটু দেখাতে পারে।
  • ডেনচারকে নিয়মিত পরিষ্কার না করলে ডেনচার স্টোমাটাইটিস,ফাংগাল ইনফেকশন হতে পারে।

ফিক্সড ডেনচার / ব্রীজ

এটিও আলগা দাঁত লাগানোর অন্যতম প্রচলিত একটি পদ্ধতি। এতে ফাঁকা স্থানের দুইপাশে প্রয়োজনীয়সংখ্যক দাঁতকে এবাটমেন্ট বা পিলার হিসেবে ব্যবহার করে মাঝে আলগা দাঁতকে স্থায়ীভাবে বসিয়ে দেয়া হয়। এতে খোলা লাগানোর বা আলাদাভাবে পরিষ্কার করার দরকার নেই। ব্রীজ বা ফিক্সড ডেনচার দেখতে এরকম-

সুবিধা :

  • এটিকে খোলা লাগানো বা আলাদা করে পরিষ্কার করার দরকার নেই। তবে অবশ্যই ওরাল হাইজিন মেইনটেইন করতে হবে।
  • রিমুভেবল ডেনচার এর চেয়ে এটির শক্তি ও স্থায়িত্ব বেশী হয়ে থাকে
  • দেখতে রিমুভেবল ডেনচার এর চেয়ে বেশী ন্যাচেরাল মনে হয়।

অসুবিধা :

  • এই পদ্ধতিতে ব্রীজ বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা দরকার হয়। এজন্য ফাঁকা স্থানের দুপাশের দাঁতকে রুট ক্যানাল করতে হয় ও/অথবা কেটে সামান্য ছোট করতে হয়।
  • একই চোয়ালে অনেকগুলো দাঁত না থাকলে এবং হাড় ও মাড়ির অবস্থা প্রয়োজন অনুসারে ভালো না হলে অনেকসময় ব্রীজ করা সম্ভব নাও হতে পারে।
  • সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।

ইমপ্ল্যান্ট

এই পদ্ধতি সাম্প্রতিক সময়ে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এতে ফিক্সড ডেনচার/ব্রীজ ও রিমুভেবল ডেনচার এর অনেক অসুবিধা দূর করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে একটি বায়োকম্প্যাটিবল মেটাল স্ক্রু চোয়ালে বসানো হয়। এবং ঐ স্ক্রু এর উপর আলগা দাঁত বসানো হয়। ইমপ্ল্যান্ট দেখতে কিছুটা এরকম –

সুবিধা :

  • এতে ফাঁকা স্থানের পাশের দাঁতে রুট ক্যানাল করার বা কেটে ছোট করার প্রয়োজন নেই।
  • খোলা লাগানোর বা খুলে পরিষ্কার করার দরকার নেই। তবে ওরাল হাইজিন অবশ্যই মেইনটেইন করতে হবে।
  • দেখতে সম্পূর্ণ ন্যাচেরাল মনে হয়।

অসুবিধা :

  • সময়সাপেক্ষ ও অনেক ব্যয়বহুল।
  • যেই মেটাল স্ক্রু ব্যবহার করা হয় তা অনেক সময় শরীর একসেপ্ট করতে নাও পারে। সেক্ষেত্রে ভিন্ন মেটাল ব্যবহার করা যেতে পারে অথবা ইমপ্ল্যান্ট করা সম্ভব নাও হতে পারে।
  • এটি সার্জিকাল ও রিস্টোরেটিভ চিকিৎসার সমন্বয়। সহজ ভাষায় এটি একটি মাইনর অপারেশন এর মতই।
  • এটি তুলনামূলক নতুন চিকিৎসা হওয়ায় এর দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল নিয়ে তথ্য কম আছে।

আশা করি আপনারা দাঁত ও মাড়ির যত্ন নেবেন যাতে মধ্যবয়সের আগে এই পদ্ধতির কোনটিই আপনাকে না নিতে হয়। আর যদি নিতেই হয়, আশা করি এই লেখা আপনাদের সঠিক পদ্ধতি পছন্দ করতে সাহায্য করবে।

সবাই ভালো থাকুন। আর দাঁত ও মুখের যত্ন নিন।

Leave a Reply